মায়ানমারে ঐতিহাসিক রেলসেতু ধ্বংস

জান্তা-বিদ্রোহীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ


মায়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা রবিবার জানিয়েছে, অভ্যুত্থানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বোমা মেরে একটি ঐতিহাসিক রেলওয়ে সেতু ধ্বংস করেছে। উপনিবেশ আমলের সেতুটি একসময় বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলওয়ে ট্রেসেল হিসেবে পরিচিত ছিল।


২০২১ সালের অভ্যুত্থানে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মায়ানমার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে আছে। সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও নানা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।


জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এদিন বলেন, তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স গোকতাইক সেতুতে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।


আরেকটি বিবৃতিতে জান্তা দাবি করেছে, সেতুটি স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


৩৩৪ ফুট গভীর গিরিখাতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গোকতাইক ভায়াডাক্ট মায়ানমারের সবচেয়ে উঁচু সেতু। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৯০১ সালে চালু হওয়ার সময় এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলওয়ে ট্রেসেল ছিল।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, সেতুটি আংশিকভাবে ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সেতু মান্দালয়ের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যকে রেলপথে যুক্ত করে এবং পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়।


তবে টিএনএলএর এক মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জান্তা নিজেরাই সেতুতে বোমা হামলা করেছে। মুখপাত্র লোয়ে ইয়াই উ আরো বলেন, মায়ানমার সেনাবাহিনী আজ সকালে ড্রোন ব্যবহার করে আমাদের ঘাঁটিতে বোমা হামলার চেষ্টা করেছিল।


তারা আমাদের লক্ষ্য করে বোমা ফেললেও সেই বোমা গোকতাইক সেতুতেও আঘাত হানে।

সম্প্রতি টিএনএলএ ও জান্তার মধ্যে নাওংকিয়ো ও কিয়াউকমে শহরে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। জুলাই মাসে নাওংকিয়ো শহর পুনর্দখল করার দাবি করেছিল জান্তা।


kalerkantho