উচ্চকক্ষেরও নিয়ন্ত্রণ হারাল জাপানের নড়বড়ে সরকার
জাপানের শাসক জোট রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার ক্ষমতায় আরো দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এ ফলাফল। যদিও এই নির্বাচনের ফল সরাসরি ইশিবার প্রশাসনের পতন নির্ধারণ করে না, তবুও এটি তার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ তিনি অক্টোবরের নির্বাচনে নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছেন।
ইশিবারের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জোটসঙ্গী কোমেইতো ৪৭টি আসন অর্জন করেছে, যা ২৪৮ আসনের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য ৫০টি আসনের প্রয়োজন ছিল। এই ফলাফলটি ইশিবারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অক্টোবরের নির্বাচনের পর ১৫ বছরের মধ্যে এটি ছিল তার দলের সবচেয়ে বাজে ফলাফল।
নির্বাচনের পর ইশিবা বলেন, ‘আমি এই কঠিন ফলাফলকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছি।
’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক আলোচনা চালাচ্ছি... এসব আলোচনা নষ্ট হওয়া উচিত নয়। আমাদের অবশ্যই আমাদের জাতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে সমস্ত শক্তি নিবেদিত রাখতে হবে।’
জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আগামী ১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমায় রয়েছে, অন্যথায় এর সবচেয়ে বড় রপ্তানির বাজারে শুল্ক আরোপিত হবে।
ইশিবারকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকার ইচ্ছা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি থাকব।’
এদিকে প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ২২টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সানসেইতো একটি উগ্র ডানপন্থী দল, তারা তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছে। তারা ১৪টি আসন পেয়েছে।
সম্প্রতি জাপানে অর্থনৈতিক সমস্যা এবং ভোক্তাদের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারের প্রতি অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের পরিচালক ডেভিড বোলিং বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে এলডিপি অনেকটাই প্রতিরক্ষার খেলা খেলেছে। কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটার ইস্যুর বিপক্ষে ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধী দলগুলো এই সুযোগটি নিয়েছে এবং জনগণের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছানোর জন্য তাদের প্রচার চালিয়েছে।’
এদিকে, সানসেইতো তাদের কঠোর অভিবাসননীতির জন্য মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, বিদেশিরা জাপানের সম্পদ এবং সেবা গ্রহণ করছে, তবে জাপানি জনগণকে তাতে অবহেলা করা হচ্ছে।
বিশ্বের দ্রুত বর্ধিত বয়স্ক সমাজের দেশ জাপানে গত বছর বিদেশি বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ৩.৮ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ। তবে বিদেশি পর্যটকরা এখন জাপানের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছেন, যা দেশের জনগণের মধ্যে আরো বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। নির্বাচনের পর, দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
সূত্র : রয়টার্স